পাকিস্তানকে বাংলা ওয়াশ করতে মুখিয়ে আছে টিম টাইগার, যেনো পূর্বের কিছু দেনা পাওনা এবার মিটিয়ে নেয়ার পালা। পূর্ব পুরুষ তথা সাকিব তামিমদের পরাজিত করার বদলা যেনো ঠিকঠাক ভাবেই নিচ্ছে লিটন ইমনরা।ঢাকায় এখন জমজমাট ক্রিকেট রাজনীতি। এশিয়ান ক্রিকেট কাউন্সিলের (ACC) বার্ষিক সাধারণ সভা (AGM) উপলক্ষে একসঙ্গে উপস্থিত হয়েছেন এশিয়ার ক্রিকেটের বড় বড় কর্তারারা। যদিও ভারত ও শ্রীলঙ্কার প্রতিনিধি দল সরাসরি অংশ নেয়নি, তারা ভার্চুয়াল মাধ্যমে যুক্ত থাকছে।
অন্যদিকে পাকিস্তানের পক্ষ থেকে এসেছেন এমন একজন যার কাঁধে তিনটি গুরুত্বপূর্ণ পদ—মহসিন রাজা নাকভি; পাকিস্তানের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, ক্রিকেট বোর্ডের (PCB) প্রধান এবং এশিয়ান ক্রিকেট কাউন্সিলের বর্তমান চেয়ারম্যান।নাকভি ঢাকায় আসার পর থেকেই নানা কর্মব্যস্ততায় ব্যস্ত সময় পার করছেন। দেখা করেছেন বাংলাদেশের স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা এবং যুব ও ক্রীড়া উপদেষ্টার সঙ্গে। পাকিস্তান দলের প্রধান কোচ মাইক হেসনের সঙ্গেও করেছেন আলোচনাসভা।
রাতের বেলা অংশ নিয়েছেন বিসিবি সভাপতি আমিনুল ইসলাম বুলবুল আয়োজিত নৈশভোজে, যেখানে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ ও পাকিস্তান দলের খেলোয়াড়রাও। আজ সন্ধ্যায় মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়ামে বসে তিনি দেখবেন সিরিজের তৃতীয় ও শেষ টি-টোয়েন্টি ম্যাচটি।এই মুহূর্তে সিরিজে ২-০ ব্যবধানে এগিয়ে রয়েছে বাংলাদেশ। আজকের ম্যাচে জিততে পারলেই পাকিস্তানকে হোয়াইটওয়াশের স্বাদ দিতে পারবে—যা হবে ইতিহাসে প্রথমবার।
শুধুমাত্র সিরিজ জেতা নয়, বরং দীর্ঘদিনের জমে থাকা হতাশা ও ক্ষোভের জবাব দেওয়ার লক্ষ্যে নামছে টাইগাররা।অন্যদিকে, পাকিস্তান চাইছে অন্তত একটি জয় নিয়ে দেশে ফিরতে। নাকভির চোখের সামনেই যদি ৩-০ ব্যবধানে হেরে বসে, তবে সেটা পাকিস্তান দলের জন্য হবে আরও বিব্রতকর। এমনিতেই পারফরম্যান্সে হতাশ সাবেক তারকারা। শোয়েব আখতার বলেন, “এই ক্রিকেটারদের দক্ষতা যথেষ্ট নয়। এ ধরনের উইকেটে এদের খেলার ধরন একদমই মানানসই নয়।
”মিরপুরের পিচ নিয়ে আলোচনা থাকলেও বিসিবি সভাপতি বুলবুল মনে করেন, এতে পক্ষপাতের কিছু নেই। তার ভাষায়, "উইকেট তো দুই দলের জন্যই সমান। আমাদের ছেলেরা যেভাবে পরিবেশের সঙ্গে মানিয়ে নিচ্ছে, সেটাই আসল জয়।"প্রচলিত ধারণা অনুযায়ী মিরপুরের উইকেট ব্যাটারদের জন্য কঠিন, কিন্তু বাংলাদেশ দল এখন এই কঠিন উইকেটেও নিয়মিত ভালো খেলছে।
শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে পাওয়া সাফল্যের ধারাবাহিকতা এখনো বজায় আছে। টানা চারটি টি-টোয়েন্টি জয়ের পাশাপাশি, একটানা দুটি সিরিজ জয়ই বলছে—দলটি আত্মবিশ্বাসের শিখরে।পাকিস্তানকে এখনো টি-টোয়েন্টিতে হোয়াইটওয়াশ করা হয়নি বাংলাদেশের। ইংল্যান্ড ও ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে এই কীর্তি থাকলেও, পাকিস্তানের নাম এখনো যুক্ত হয়নি সে তালিকায়। আজ যদি বাংলাদেশ জয় পায়, তবে তা শুধু আরেকটি জয় নয়—বরং একটি বড় বার্তা।দুই মাস আগেই পাকিস্তানের কাছে যেভাবে পরাজিত হয়েছিল বাংলাদেশ, সেই কষ্ট এখনো দগদগে। আজকের জয় হতে পারে সেই ক্ষতে প্রলেপ দেওয়ার এক সুযোগ। এবার পালা বাংলাদেশের—পুরনো হিসাব মেটানোর।