বাংলাদেশের ফুটবলের ইতিহাসে নতুন গর্বের নাম হামজা চৌধুরী। ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগের দল লেস্টার সিটির হয়ে খেলতে খেলতেই তিনি নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন ক্লাবের মূল শক্তি হিসেবে। এবার সেই যাত্রায় যোগ হলো নতুন এক অধ্যায়—ক্যাপ্টেনের আর্মব্যান্ড।
২৭ বছর বয়সী মিডফিল্ডারকে আনুষ্ঠানিকভাবে অধিনায়ক ঘোষণা করেছে লেস্টার সিটি। ক্লাবের পক্ষ থেকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্ট করে জানানো হয়েছে, দলের “ইঞ্জিন” হিসেবে পরিচিত হামজা এখন দলের ক্যাপ্টেন। একইসাথে তার নেতৃত্বগুণের প্রশংসাও করা হয়েছে।
মাঠের সর্বমুখী নায়ক
দলের ডানপাশে শুরু হলেও মাঠে নামার পর প্রমাণ করেছেন কেন তাকে বলা হয় লেস্টারের সবচেয়ে বহুমুখী তারকা। এক ম্যাচে রাইট-ব্যাক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন অসাধারণ দক্ষতায়। প্রতিপক্ষের আক্রমণ বারবার ভেঙে দিয়েছেন, নিখুঁত ট্যাকল এবং বল কন্ট্রোল দিয়ে গোলের সুযোগ বন্ধ করেছেন। শুধু রক্ষণ নয়, আক্রমণেও রেখেছেন উল্লেখযোগ্য প্রভাব। দলের জন্য গোলের সুযোগ তৈরি করেছেন, গতি ও পাসিং দিয়ে রেখেছেন ভরসা।
মাঠে উপস্থিতি মানেই যেন দলের জন্য একাধিক খেলোয়াড়ের সমান সুবিধা। কখনও রাইট-ব্যাক, কখনও উইঙ্গার, আবার কখনও মিডফিল্ডার—যেখানে প্রয়োজন সেখানে হাজির হন তিনি। সমর্থকদের কাছে তিনি “ভার্সেটাইল ইঞ্জিন”।
অসাধারণ পারফরম্যান্সের মাঝেই দুঃসংবাদ
চ্যাম্পিয়নশিপের ৪র্থ রাউন্ডে বার্মিংহামের বিপক্ষে লেস্টার ২-০ গোলে জয় নিশ্চিত করে। হামজা ছিলেন প্রতিটি বিভাগে অসাধারণ—ফাইনাল থার্ডে চারটি বল ঠেলেছেন, হেডে ক্লিয়ারেন্স, তিনটি রিকভারি, ইন্টারসেপশন এবং গ্রাউন্ড ডুয়েল জয়—সব কিছুতেই তার প্রভাব স্পষ্ট।
তবে সুখের মাঝেই এসেছে উদ্বেগ। ম্যাচের ৭২ মিনিটে ইনজুরির কারণে মাঠ ছাড়তে হয়েছে তাকে। দলের জন্য যেমন দুশ্চিন্তার বিষয়, তেমনি বাংলাদেশের ফুটবলপ্রেমীদের জন্যও হতাশার খবর। বিশেষ করে বাফুফে যে পরিকল্পনা করছে পরবর্তী দুই ম্যাচের জন্য, সেখানে হামজার উপস্থিতি এখন অনিশ্চিত।