বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর তার রাজনৈতিক জীবনের শুরু এবং গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে তার দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরেছেন। শুক্রবার দুপুরে খামারবাড়ি কৃষিবিদ ইনস্টিটিউটে আয়োজিত "ঐক্য, সংস্কার ও নির্বাচন" শীর্ষক সংলাপে তিনি বলেন, “আমি তাত্ত্বিক নই, বিশেষজ্ঞও নই। আমি একেবারে মাঠকর্মী। আমি পৌরসভার চেয়ারম্যান থেকে রাজনৈতিক জীবন শুরু করেছি এবং তৃণমূলের মানুষের সঙ্গে কাজ করতে করতে আজকের পর্যায়ে এসেছি।”
মির্জা ফখরুল বলেন, জনগণকে বাদ দিয়ে কোনো কিছু করা সম্ভব নয়। জনগণের সঙ্গে কাজ করে তাদেরই সঙ্গে নিয়ে গণতন্ত্রের পথে এগোতে হবে। সংবিধান সংস্কার কমিশনের কার্যক্রম সম্পর্কে তিনি বলেন, প্রস্তাবগুলো যদি রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে আগেই আলোচনা করা হতো, তাহলে আরও কার্যকর হতে পারত। তবে প্রস্তাবগুলো সরকারে দেওয়ার পর দীর্ঘ প্রক্রিয়ায় গেলে সমস্যাগুলো আরও জটিল হতে পারে বলে তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন।
তিনি বলেন, প্রশাসন এবং সরকারি কাঠামোতে এখনও ফ্যাসিবাদের চর্চা চলছে। এই কাঠামো না বদলালে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা সম্ভব নয়। “আমাদের প্রতিষ্ঠানগুলোকে গণতন্ত্র উপযোগী করে তুলতে হবে। ভুল হবে, ত্রুটি হবে, কিন্তু সেগুলোর মধ্য দিয়েই গণতান্ত্রিক ব্যবস্থাকে প্রতিষ্ঠিত করতে হবে,” তিনি বলেন।
মির্জা ফখরুল বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ এবং গণতন্ত্রের জন্য সংঘটিত লড়াইয়ের ঐতিহাসিক গুরুত্বের কথা স্মরণ করিয়ে দেন। তিনি বলেন, “আমরা যেন ৭১-এর চেতনাকে ভুলে না যাই। সেই সংগ্রামের ধারাবাহিকতা আমাদের মনে রাখতে হবে। ছাত্রদের আত্মত্যাগের মাধ্যমে আমরা আজকের এই পর্যায়ে পৌঁছেছি।”
বিএনপির পক্ষ থেকে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার জন্য প্রয়োজনীয় সংস্কারের পক্ষে কাজ করার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করে তিনি বলেন, “আমরা সবসময় গণতন্ত্রের পক্ষে। তবে জনগণকে বাদ দিয়ে ওপর থেকে কোনো চাপিয়ে দেওয়া সিদ্ধান্ত কার্যকর হবে না। আমরা জনগণকে সঙ্গে নিয়েই কাজ করব।”
তিনি গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার জন্য মানসিকতা ও চর্চার গুরুত্বও তুলে ধরেন। তিনি বলেন, “আমাদের মাইন্ডসেট বদলাতে হবে। গণতন্ত্র চর্চা করতে হবে এবং এর মধ্য দিয়েই সঠিক পথ খুঁজে বের করতে হবে।”
মির্জা ফখরুলের এই বক্তব্য তার বিনয়ী রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব এবং গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার প্রতি অঙ্গীকারকে প্রকাশ করে।