রাজনীতি

নির্বাচনে অংশ নেওয়া এবং বাধার বিষয়ে কী বলছেন আ. লীগ নেতারা

উপ-সম্পাদক

উপ-সম্পাদক

শুক্রবার, ২৭ ডিসেম্বর, ২০২৪
নির্বাচনে অংশ নেওয়া এবং বাধার বিষয়ে কী বলছেন আ. লীগ নেতারা
বাংলাদেশের আগামী জাতীয় নির্বাচনকে কেন্দ্র করে দেশের রাজনীতি উত্তপ্ত। অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের ঘোষিত সময়সীমার মধ্যে নির্বাচন আয়োজনের পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা চলছে। এ বিষয়ে আওয়ামী লীগ ও অন্যান্য রাজনৈতিক দলের মধ্যে মতবিরোধ স্পষ্ট।
আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম নির্বাচনকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, “আমরা চাই একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও অন্তর্ভুক্তিমূলক নির্বাচন। জনগণের ভোট দেওয়ার অধিকার সুরক্ষিত রাখতে হবে। বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আমরা সবসময় নির্বাচনের জন্য প্রস্তুত।”
তবে দলের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য আব্দুর রহমান ভিন্নমত পোষণ করেছেন। তিনি বলেন, এই অন্তর্বর্তী সরকারের কোনো কার্যক্রমকে আমরা বৈধতা দিচ্ছি না। নির্বাচনে অংশগ্রহণের বিষয়ে দলীয় সিদ্ধান্ত এখনও হয়নি। এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবেন আমাদের দলীয় প্রধান শেখ হাসিনা।
আওয়ামী লীগের নির্বাচনে অংশগ্রহণের বিষয়টি নিয়ে বিভিন্ন মহলে প্রশ্ন উঠেছে। বাহাউদ্দিন নাছিম এ বিষয়ে বলেন, “আওয়ামী লীগকে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে না দিলে সেটি কোনো নির্বাচন হবে না। এটি দেশ-বিদেশে গ্রহণযোগ্যতা পাবে না। জনগণ তাদের পছন্দের দলকেই বেছে নেবে।”
অন্যদিকে, রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের দাবিতে আওয়ামী লীগ নেতাদের অনেকেই আত্মগোপনে রয়েছেন। গোপালগঞ্জসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় আওয়ামী লীগের নেতাদের প্রকাশ্যে পাওয়া যাচ্ছে না। এ বিষয়ে নাছিম বলেন, “মামলা, হামলা এবং নির্যাতনের কারণে আমরা এই পরিস্থিতির মুখোমুখি। স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে আমরা অপেক্ষা করছি।”
দীর্ঘদিনের শাসনামলে আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগ উঠে এসেছে, যার মধ্যে কর্তৃত্ববাদী শাসন, দুর্নীতি, ভোট কারচুপি, এবং গুম-খুনের মতো বিষয় উল্লেখযোগ্য। বিশেষ করে জুলাই আন্দোলনের সময়কার হত্যাকাণ্ড দলটির ভাবমূর্তিতে নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে।
নাছিম বলেন, “আমরা আমাদের ভুল থেকে শিখতে চাই। মানুষ আমাদের সমালোচনা করলে তা মেনে নিয়ে সংশোধনের চেষ্টা করব। খারাপ দিকগুলো বর্জন করে, অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে সামনে এগোতে চাই।”
তিনি আরও বলেন, “আমরা চাই একটি নিরপেক্ষ নির্বাচন। জনগণ যাদের ভোট দেবে, আমরা তা মেনে নেওয়ার জন্য প্রস্তুত। তরুণ প্রজন্মকে সঙ্গে নিয়ে আমরা গণআন্দোলনের মাধ্যমে যেকোনো অশুভ পরিকল্পনা প্রতিহত করব।”
আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতৃত্বকে ঘিরে থাকা নানা বিতর্ক দলটির জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিশেষ করে স্বৈরাচার ও গণহত্যার অভিযোগ দলটির রাজনৈতিক অবস্থানকে সংকটময় করেছে।
তবে দলটি ভবিষ্যতে নিজেদের ভুল সংশোধন করে জনগণের কাছে ফিরে আসার আশাবাদ ব্যক্ত করেছে। বাহাউদ্দিন নাছিম বলেন, “সুষ্ঠু ভোটের মাধ্যমে জনগণ যাকে চাইবে, আমরা সেটি মেনে নেব। আমরা জনগণের পাশে থেকে দেশের উন্নয়ন ও গণতন্ত্র রক্ষায় কাজ করব।”
এ অবস্থায়, আওয়ামী লীগসহ দেশের সব রাজনৈতিক দলের অংশগ্রহণে একটি সুষ্ঠু, অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন আয়োজন দেশের গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে বলে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন।