নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় নেতা আদনান হাবিব খান আদরকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। রোববার রাতে রাজধানী ঢাকা থেকে গ্রেফতারের পর সোমবার বিকেলে তাকে পটুয়াখালী আদালতে সোপর্দ করা হয়। আদালতের নির্দেশে আদনানকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
আদনান হাবিব খান আদর ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় উপ ত্রাণ ও দুর্যোগ বিষয়ক সম্পাদক। তিনি পটুয়াখালী শহরের চরপাড়া এলাকার বাসিন্দা এবং প্রয়াত আহসান হাবিব খানের বড় ছেলে। আহসান হাবিব খান পটুয়াখালী জেলা যুবদলের সাবেক সভাপতি ছিলেন। আদনান বর্তমানে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী।
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা, পুলিশের উপ-পরিদর্শক (এসআই) মো. ওবাইদুল ইসলাম জানান, গত ১ ডিসেম্বর পটুয়াখালী সদর থানায় আদনানকে প্রধান আসামি করে পুলিশের এসআই খাইরুল ইসলাম বাদী হয়ে বিশেষ ক্ষমতা আইনে একটি মামলা দায়ের করেন। মামলায় ছাত্রলীগের আরও ১৭ জন নেতাকর্মীর নাম উল্লেখ করা হয় এবং অজ্ঞাত ২০-২৫ জনকে আসামি করা হয়।
ঘটনার সূত্রপাত গত ৩০ নভেম্বর ভোরে পটুয়াখালী শহরের খাদ্য গুদাম এলাকা থেকে একটি মিছিল বের করার মাধ্যমে। নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন ছাত্রলীগের ওই মিছিলের নেতৃত্ব দেন আদনান হাবিব খান আদর। মিছিলের ভিডিও ফুটেজ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়। পুলিশের অভিযোগ অনুযায়ী, মিছিলটি আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির জন্য হুমকিস্বরূপ ছিল। এ ঘটনার পরপরই পুলিশ বিশেষ ক্ষমতা আইনে মামলা দায়ের করে।
পুলিশ জানায়, মিছিলের সময় সরকারি নিষেধাজ্ঞা লঙ্ঘন করে ছাত্রলীগ কর্মীরা একত্রিত হয় এবং সরকারের বিরুদ্ধে উসকানিমূলক বক্তব্য দেয়। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী মিছিলটি ছত্রভঙ্গ করার চেষ্টা করলে সেখানে উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। ভিডিও প্রকাশ পাওয়ার পর পুলিশের নজরে আসে এবং তদন্তের পর আদনানসহ ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়।
আদনান হাবিব খান আদরের গ্রেফতারের খবর ছড়িয়ে পড়ার পর পটুয়াখালী এবং ছাত্র রাজনীতির সংশ্লিষ্ট মহলে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা যায়। তার সমর্থকরা এই গ্রেফতারকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে দাবি করছেন। অন্যদিকে পুলিশ ও প্রশাসন বলছে, নিষিদ্ধ সংগঠনের কার্যক্রম পরিচালনা আইনত অপরাধ এবং এর সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
মামলার বিষয়টি নিয়ে পুলিশ আরও জানিয়েছে যে আদনানসহ অন্য নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে আগে থেকেই নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠনের কার্যক্রম চালানোর অভিযোগ রয়েছে। পটুয়াখালী সদর থানার কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় এসব কার্যক্রম কোনোভাবেই সহ্য করা হবে না।
এদিকে আদনানের পরিবার দাবি করেছে, তিনি নিরপরাধ এবং একটি ষড়যন্ত্রের শিকার হয়েছেন। পরিবারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, আদনান সবসময় বিশ্ববিদ্যালয়ের পড়াশোনা ও ছাত্র রাজনীতিতে সক্রিয় থাকলেও কোনো ধরনের অপরাধে জড়িত ছিলেন না।
আদনান হাবিব খান আদরের গ্রেফতারের ঘটনায় পটুয়াখালীসহ আশপাশের এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে। নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে পুলিশ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি যাতে অবনতি না ঘটে, সেজন্য অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে বলে জানায় সংশ্লিষ্ট প্রশাসন।
উল্লেখ্য, ছাত্রলীগকে নিষিদ্ধ সংগঠন হিসেবে ঘোষণা করার পরও তাদের কিছু অংশ দেশের বিভিন্ন এলাকায় সংগঠনের ব্যানারে কার্যক্রম পরিচালনা করছে বলে অভিযোগ রয়েছে। প্রশাসন বলছে, নিষিদ্ধ সংগঠনের যেকোনো কর্মকাণ্ড কঠোরভাবে দমন করা হবে।