জাতীয় পার্টি পূর্বঘোষিত শনিবারের (২ নভেম্বর) সমাবেশ ও বিক্ষোভ মিছিল স্থগিত করেছে। শুক্রবার জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যানের প্রেস সেক্রেটারি খন্দকার দেলোয়ার জালালী স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই ঘোষণা দেওয়া হয়। বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয় যে, ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ অর্ডিন্যান্স ২৯ ধারার ক্ষমতাবলে কাকরাইলের পাইওনিয়ার রোডে অবস্থিত জাতীয় পার্টির কেন্দ্রীয় কার্যালয়সহ পার্শ্ববর্তী এলাকায় যেকোনো ধরনের সভা, সমাবেশ, মিছিল, শোভাযাত্রা এবং বিক্ষোভ নিষিদ্ধ করা হয়েছে। তাই জাতীয় পার্টি আইনের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে এবং আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখার স্বার্থে এই কর্মসূচি সাময়িকভাবে স্থগিত করেছে।
এবারের সমাবেশ স্থগিতের সিদ্ধান্তের আগে জাতীয় পার্টি তাদের কার্যালয়ের সামনে সমাবেশ করার ব্যাপারে দৃঢ় প্রতিজ্ঞ ছিল। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় কাকরাইল কার্যালয়ে অগ্নিসংযোগ এবং ভাঙচুরের ঘটনার পর দলের চেয়ারম্যান গোলাম মোহাম্মদ (জিএম) কাদের শুক্রবার এক সংবাদ সম্মেলনে ঘোষণা দেন যে তারা এই ঘটনায় ভয় পেয়ে পিছিয়ে যাবে না এবং পূর্বঘোষিত সময় অনুযায়ী সমাবেশটি হবে। তিনি জানান, জাতীয় পার্টিকে ধ্বংস করতে একটি রাজনৈতিক দল ষড়যন্ত্র করছে, কিন্তু তারা এতে সফল হবে না। জিএম কাদের এও দাবি করেন যে, জাতীয় পার্টি ধ্বংস হলে দলের ভোটের বেশিরভাগই বিএনপির দিকেই চলে যাবে এবং কিছু ভোট জামায়াত পাবে।
এতে আরও বলা হয় যে, দলের নেতাদের নামে দায়ের করা মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার এবং দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে সরকারের প্রতি দাবি জানিয়ে রাজধানীতে সমাবেশ ও বিক্ষোভের পরিকল্পনা ছিল জাতীয় পার্টির। সমাবেশটি দুপুর ২টায় কাকরাইলের কেন্দ্রীয় কার্যালয় প্রাঙ্গণে হওয়ার কথা ছিল এবং এতে সভাপতিত্ব করার কথা ছিল দলের চেয়ারম্যানের।
তবে, পুলিশের নিষেধাজ্ঞার প্রেক্ষিতে দলীয় সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করে জাতীয় পার্টি এই কর্মসূচি স্থগিতের ঘোষণা দেয়। প্রেস সেক্রেটারি খন্দকার দেলোয়ার জালালী জানান, দলের সিদ্ধান্ত আইনের প্রতি সম্মান জানিয়ে নেওয়া হয়েছে এবং ভবিষ্যতে সমাবেশের জন্য নতুন তারিখ ও কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে। দলের পরবর্তী কর্মসূচি আনুষ্ঠানিকভাবে জানিয়ে দেওয়া হবে বলে বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়।
জাতীয় পার্টির এই কর্মসূচি স্থগিতের সিদ্ধান্ত নিয়ে দলের ভেতর ও বাইরে আলোচনা চলছে। অনেকেই বলছেন, কাকরাইল কার্যালয়ে হামলার পরই জাতীয় পার্টির নেতারা যে শক্তির কথা জানিয়েছিলেন তা প্রতিফলিত হয়নি। একইসাথে, পুলিশি নিষেধাজ্ঞার প্রেক্ষিতে কর্মসূচি স্থগিত করার এই সিদ্ধান্ত নিয়ে সমর্থকদের মধ্যেও মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে।