একটি মাত্র ভুলেই সব হারালেন জনপ্রিয় ইউটিউবার মিরাজ আফ্রিদি! দীর্ঘদিনের অর্জিত সম্মান ও ভালোবাসা সব গেলো জলে! মিরাজের এখন একটাই পরিচয় আর তা হচ্ছে প্রতারক!
ইউটিউবে তার ছিলো লক্ষাধিক সাবস্ক্রাইবার..আর এটি ঘিরেই শুরু হয় যত বিপত্তি। সাধারণ মানুষের বিশ্বাস এবং আবেগের সাথে প্রতারণা করার অভিযোগ উঠে তার বিরুদ্ধে।
হঠাৎ করেই, মিরাজের ইউটিউব চ্যানেল থেকে ভিন্ন ধরনের ভিডিও পাবলিশ হওয়া শুরু হয়। তখন ফেইসবুকে একটি ভিডিও বার্তার মাধ্যমে তিনি জানান, তার আগের চ্যানেলটি হ্যাক হয়েছে।
সবাইকে তার নতুন আরেকটি চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করতে বলেন। সে পোস্টের কমেন্টে এক ব্যাক্তি তাকে প্রতারক বলে অভিযোগ করেন। কারন তিনি তার আগের ইউটিউব চ্যানেলটি বিক্রি করে দেন।
আর এতেই নড়েচড়ে বসেন সাধারণ মানুষ। মিরাজ আফ্রিদির কাছ থেকে এমন ধোঁকা মেনে নিতে পারেনি তার ভক্তরা। যদিও পরবর্তীতে নিজের ভুল বুঝতে পেরে, আরেকটি ভিডিওতে নিজের কৃত কর্মের জন্য ক্ষমা চান তিনি।
এ সময় তিনি জানান, তার আগের চ্যানেলটিতে এখন আর আগের মত ভাল ভিউ হয়না। উপার্জন কমে যাওয়ায় তার তদারকিতা থাকা এতিমখানাটি চালাতেও কষ্ট হচ্ছিল। তাই বাধ্য হয়ে তিনি আগের চ্যানেলটি বিক্রি করার সিদ্ধান্ত নেন।
তখন তার এক ছোট ভাইয়ের কথায় প্ররোচিত হয়ে তিনি চ্যানেল হ্যাক হওয়ার মিথ্যা নাটক সাজান। কিন্তু শেষ পর্যন্ত মিথ্যা বলার জন্য তিনি অপরাধবোধ করছিলেন। তাই সবার কাছে সত্যিটা স্বীকার করে নিলেন।
তবে দর্শকদের কাছে তার আগের গ্রহনযোগ্যতা হারিয়ে যায়। এমন কাজের জন্য তাকে নিয়ে চলছে ঘোর সমালোচনা।
উল্লেখ্য, জন্ম থেকেই দুই হাত নেই মিরাজের। শারীরিক প্রতিবন্ধি হওয়ার কারনে সবসময় সমাজের সব ক্ষেত্রেই বঞ্চনার শিকার হয়েছেন তিনি।
এমনকি স্কুলে ভর্তির সময়ও তাকে পড়তে হয়েছে বিপত্তিতে! লেখাপড়ার জন্য একান্ত জরুরি হাতই যে তার নেই। এ অজুহাতে শিক্ষকরাও তাকে স্কুলে ভর্তি নিতে ইচ্ছুক ছিলেন না ।
তাই বলে থেমে থাকেননি প্রচন্ড ইচ্ছাশক্তি সম্পন্ন এই যুবক। নিজের পা দিয়েই লিখা শুরু করেন। একজন সাধারণ মানুষ হাত দিয়ে যেসব কাজ করেন, সেসব কাজ অনায়াসে পা দিয়েই করতে পারেন তিনি।
পা দিয়ে লিখেই এস এস সি এবং এইচ এস সি পাশ করেন মিরাজ। এরপর স্নাতক পর্যায়ে অর্থনীতি নিয়ে পড়াশোনা শুরু করেন।
পাবনার আটখোরিয়ার ছেলে মিরাজ, জন্মের পর থেকে প্রত্যন্ত গ্রামে বেড়ে উঠেছেন। অতি সাধারণ পরিবারের সন্তান তিনি।
জন্মের পর থেকে আত্মীয় স্বজন, পাড়া প্রতিবেশী সবার কাছে সবসময় বোঝা মনে হলেও নিজের চেষ্টায় পরিবর্তন করেন তার ভাগ্যের চাকা।
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেইসবুক এবং ইউটিউবে চ্যানেল খুলে সেখানে শিক্ষনীয় এবং নিজের জীবনের নিয়মিত বিভিন্ন মূহুর্তের ভিডিও পোস্ট করতেন।
আর এভাবে রাতারাতি তারকা বনে যান তিনি। সোশ্যাল মিডিয়া থেকে নিজের আয়ের অংশ দিয়ে একটি এতিমখানাও প্রতিষ্ঠা করেন। যার পুরো দেখভালই করেন মিরাজ।
পরিবারেও আসে স্বচ্ছলতা। ধীরে ধীরে সাধারণ দর্শকদের কাছে তিনি হয়ে উঠেন একজন অনুকরণীয় ব্যাক্তি। এরপর জড়িয়ে পড়লেন প্রতারণায়। আর এই প্রতারণাই কাল হয়ে দাঁড়ালো মিরাজের জীবনে!
ব্যাক্তিগত জীবনে মিরাজ বিবাহিত। তার একটি কন্যা সন্তানও রয়েছে। পরিবারের প্রতি ভিষন দায়িত্বশীল তিনি। একসময় নিজের চ্যানেলের টাকায় মাকে সোনার গহনা কিনে দিয়েও বেশ প্রশংসিত হন এ যুবক।
ইউটিউবার হিসেবে পরিচিতি পাবার আগে একটি রিয়েলিটি শোয়ে কৌতুক অভিনেতা হিসেবেও অংশ নিয়েছিলেন মিরাজ। এছাড়া বিভিন্ন ইউটিউব নাটকে তার অভিনয় চোখে পড়ার মত।