রাজনীতি

দুই বড় দলের নেতৃত্ব পরিবর্তনে বিদেশ থেকে খেলা চলছে—বিবিসি বাংলাকে সজীব ওয়াজেদ জয়

ডেস্ক রিপোর্ট

ডেস্ক রিপোর্ট

শনিবার, ২৯ নভেম্বর, ২০২৫
দুই বড় দলের নেতৃত্ব পরিবর্তনে বিদেশ থেকে খেলা চলছে—বিবিসি বাংলাকে সজীব ওয়াজেদ জয়
ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ছেলে ও তাঁর আইটি উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয় দাবি করেছেন, বাংলাদেশের দুই প্রধান রাজনৈতিক দলের নেতৃত্ব পরিবর্তনে বিদেশ থেকে একটি অগণতান্ত্রিক খেলা চলছে। বিবিসি বাংলাকে দেওয়া একান্ত সাক্ষাৎকারে তিনি এ মন্তব্য করেন। বড় দুই দল বলতে তিনি আওয়ামী লীগ ও বিএনপিকে ইঙ্গিত করেন। তবে কারা এই ‘খেলা’র সঙ্গে জড়িত—সেটি পরিষ্কার করে বলেননি।

দলের ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব বিষয়ে প্রশ্নে সজীব ওয়াজেদ বলেন, শেখ হাসিনার পর তাঁর পরিবারের কেউ আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে আসবেন না—দলই সিদ্ধান্ত নেবে।
 তিনি বলেন, “আমরা গণতান্ত্রিক দল। ভবিষ্যতের নেতৃত্ব কে হবে, সেটা দল নির্ধারণ করবে। উপরে থেকে নির্দেশ দেওয়া যায় না।”
জয়ের দাবি, বিদেশি কিছু মহল ও দেশের একটি অংশ ‘সুশীল সমাজ’ মিলেই দুই দলের নেতৃত্ব পুনর্গঠনে চাপ তৈরি করার চেষ্টা করছে। তাঁর ভাষায়, এখন যে চেষ্টা চলছে, সেটা অগণতান্ত্রিক। দুই দলের নেতৃত্ব পরিবর্তনে বিদেশ থেকে একটা খেলা চলছে।
৫ আগস্টের গণ–অভ্যুত্থানের পর আওয়ামী লীগ ব্যপক সাংগঠনিক সংকটে পড়েছে। নেতৃত্বের একটি অংশ কারাবন্দী, অনেকে বিদেশে বা আত্মগোপনে—এমন পরিস্থিতিতে রাজনৈতিক অঙ্গনে ‘রিফাইন্ড বা পরিশুদ্ধ আওয়ামী লীগ’-এর ধারণা ঘুরে বেড়াচ্ছে।
 তবে জয় এই ধারণাকে প্রত্যাখ্যান করেন।
তিনি বলেন, এই ‘রিফাইন্ড’ বিষয়টা ওয়ান-ইলেভেনের সময়ও এসেছিল। বিদেশি কয়েকটি দেশ ও কিছু শক্তি ঠিক করবে কে প্রধানমন্ত্রী হবে—এটা কি গণতন্ত্র?
জয়ের মতে, আওয়ামী লীগ ও বিএনপির মতো বড় দলগুলোর নির্দিষ্ট ভোটব্যাংক রয়েছে, এবং দেশের রাজনীতির বাস্তবতায় তাদের বাইরে নেতৃত্ব আসা অবাস্তব।

ভারতে অবস্থানরত শেখ হাসিনার রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়ে নানা জল্পনার মধ্যে দলের পরবর্তী নেতৃত্ব নিয়েও প্রশ্ন উঠছে। জয় বলেন, আমার মা এখনো দলের সভাপতি। নেতাকর্মীরা তাঁকেই মানেন। তাঁরা বিচ্ছিন্ন থাকলেও ঐক্যবদ্ধ আছেন।
দলের সভাপতিত্ব গ্রহণের সম্ভাবনা নিয়ে প্রশ্নে তিনি বলেন, আমি সরাসরি রাজনীতি করতে চাইনি। তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে আওয়ামী লীগের নেতৃত্ব তারাই নির্ধারণ করবে। শেখ হাসিনা আমাকে নেতৃত্ব নিয়ে ভাবতে বলেছেন—তবে সিদ্ধান্ত দল নেবে।
তিনি আরও বলেন, আওয়ামী লীগের ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব নির্ধারণে পারিবারিক ইচ্ছার চেয়ে দলের কাউন্সিলই হবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের জায়গা।

দলের তৃণমূলে শেখ হাসিনার মেয়ে সায়মা ওয়াজেদ পুতুলের নামও নেতৃত্ব সম্ভাবনার আলোচনায় এসেছে। তবে জয় জানান,আমার বোনের রাজনীতিতে তেমন ইচ্ছা নেই। অনেকে ভাবছেন, কিন্তু ধারণা ভুল।
তিনি বলেন, শেখ পরিবার বিদেশে প্রতিষ্ঠিত, সবার উচ্চশিক্ষা আছে—এবং বাংলাদেশের রাজনীতিতে আসতে হলে আলাদা প্রস্তুতি ও ইচ্ছার প্রয়োজন।

বর্তমান সংকট সম্পর্কে মন্তব্য করতে গিয়ে তিনি বলেন, আওয়ামী লীগের নেতৃত্ব সংকট “পরিকল্পিতভাবে তৈরি করা হয়েছে। তাঁর দাবি, আমাদের যত নেতা আছে, তাদের গ্রেপ্তার করে জেলে রাখা হয়েছে। বাকিদের দেশ ছাড়তে হয়েছে। সে কারণে দলের ওপর বিধিনিষেধ থাকলেও সমর্থন ক্ষয় হয়নি বলে দাবি করেন তিনি।

শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে তিন মামলায় ২১ বছরের কারাদণ্ড, সায়মা ওয়াজেদ ও জয়কে পাঁচ বছর করে কারাদণ্ড দেওয়ার বিষয়ে জয়ের অভিযোগ—এগুলো রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।
জয় বলেন, আমাদের পরিবারের সবাইকে এমনভাবে সাজা দেওয়া হচ্ছে যাতে নির্বাচনে অংশ নিতে না পারি। উদ্দেশ্য একটাই—আমাদেরকে রাজনৈতিকভাবে অযোগ্য করা।
এ ছাড়া জুলাই আন্দোলনের সময় সংঘটিত সহিংসতার বিষয়ে তিনি বলেন, ভুল হয়েছে—কিন্তু তদন্তের প্রয়োজন আছে। আওয়ামী লীগের সরকারের সময়ে পুলিশ ও নেতাকর্মীরাও নিহত হয়েছে—এ অভিযোগ পুনর্ব্যক্ত করেন তিনি।

২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারির নির্বাচন সামনে রেখে আওয়ামী লীগের ভবিষ্যৎ ভূমিকা নিয়ে প্রশ্নে জয় বলেন, দেশের অর্ধেক ভোটারকে বাদ দিয়ে সাজানো নির্বাচন হতে দেবো না। বাধ্য করলে আন্দোলন ছাড়া পথ থাকবে না।
আওয়ামী লীগের উপর নিষেধাজ্ঞা থাকলেও দল এখনও জনগণের উপর ভরসা করে আছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

  • —বিবিসি বাংলার সাক্ষাৎকারে সজীব ওয়াজেদ জয়