জাতীয়

২০২৫ সালের শেষে জাতীয় নির্বাচন হতে পারে: প্রধান উপদেষ্টা

উপ-সম্পাদক

উপ-সম্পাদক

সোমবার, ১৬ ডিসেম্বর, ২০২৪
২০২৫ সালের শেষে জাতীয় নির্বাচন হতে পারে: প্রধান উপদেষ্টা
মহান বিজয় দিবস উপলক্ষ্যে জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস ২০২৫ সালের শেষ নাগাদ জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে পারে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন। তবে তিনি উল্লেখ করেন, নির্বাচন প্রক্রিয়া এবং প্রয়োজনীয় সংস্কারের ওপর নির্ভর করে এ সময়সীমা বাড়তেও পারে।
সোমবার সকালে দেওয়া ভাষণে ড. ইউনূস বলেন, নির্বাচনের পূর্বশর্ত হিসেবে ভোটার তালিকা হালনাগাদ এবং নির্বাচন ব্যবস্থার সংস্কার অত্যন্ত জরুরি। তিনি জানান, গত ১৫ বছর ধরে ভোটারদের অংশগ্রহণে সীমাবদ্ধতা থাকায় তালিকা যাচাই ও হালনাগাদ করার কাজ জটিল হয়েছে। নতুন ভোটারদের নাম তালিকাভুক্ত করা এবং ভুয়া ভোটারদের সরিয়ে ফেলা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ কাজ হিসেবে চিহ্নিত করেছেন তিনি।
ড. ইউনূস বলেন, “যদি শুধু ভোটার তালিকা হালনাগাদ করে নির্বাচন করতে হয়, তাহলে ২০২৫ সালের শেষের দিকে নির্বাচন আয়োজন সম্ভব। তবে নির্বাচন কমিশনের সুপারিশ এবং রাজনৈতিক ঐকমত্যের ভিত্তিতে গভীরতর সংস্কার প্রয়োজন হলে আরও ছয় মাস অতিরিক্ত সময় লাগতে পারে।”
তিনি জানান, নির্বাচন সংস্কার ও সংবিধান সংস্কার কমিশনের সুপারিশগুলো নির্বাচনের প্রস্তুতি এবং সময় নির্ধারণে মুখ্য ভূমিকা পালন করবে। তিনি প্রত্যাশা করেন, এই কমিশনের সুপারিশগুলো যথাযথভাবে বাস্তবায়িত হলে ভবিষ্যৎ সরকার গঠনের পথ সুগম হবে।
প্রধান উপদেষ্টা তরুণ ভোটারদের সম্পৃক্ততা নিশ্চিত করার ওপর জোর দেন। তিনি আশা প্রকাশ করেন, প্রথমবারের ভোটাররা অন্তত ১০০ শতাংশ অংশগ্রহণের একটি রেকর্ড গড়বেন। এ বিষয়ে তিনি নির্বাচন কমিশন এবং সামাজিক ও রাজনৈতিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে একত্রে কাজ করার আহ্বান জানান।
তিনি বলেন, “প্রথমবারের তরুণ ভোটারদের জন্য এবারের নির্বাচন হবে স্মরণীয়। অতীতে তারা ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত হয়েছিল। এবার তাদের সেই অভিজ্ঞতা মসৃণ করার সব ধরনের ব্যবস্থা নিতে হবে।”
প্রবাসী বাংলাদেশিদের ভোটাধিকার নিশ্চিত করার বিষয়টি এবারের নির্বাচনে গুরুত্ব পাবে বলে জানান ড. ইউনূস। অতীতে এ বিষয়ে অনেক প্রতিশ্রুতি দেওয়া হলেও তা বাস্তবায়িত হয়নি। তিনি বলেন, “আমরা এমন একটি নির্ভরযোগ্য ব্যবস্থা করতে চাই যাতে প্রবাসীরা প্রথমবারের মতো ভোট দেওয়ার সুযোগ পান।”
ড. ইউনূস জানান, প্রধান নির্বাচন কমিশনারসহ নতুন নির্বাচন কমিশন ইতোমধ্যে দায়িত্ব গ্রহণ করেছে। তাদের প্রধান কাজ হবে ভোটার তালিকা হালনাগাদ, ভুয়া ভোটারদের অপসারণ এবং একটি সুষ্ঠু নির্বাচনের পরিবেশ তৈরি করা।
প্রধান উপদেষ্টা জাতীয় ঐকমত্যের ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় সংস্কার সম্পন্ন করে একটি অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন আয়োজনের জন্য রাজনৈতিক দলগুলোকে একসঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, “যদি আমরা স্থানীয় নির্বাচনে ভোটারদের সম্পৃক্ততা নিশ্চিত করতে পারি, তাহলে ভবিষ্যতে কোনো সরকার জনগণের ভোটাধিকার কেড়ে নেওয়ার সাহস করবে না।”
নির্বাচন প্রক্রিয়া উন্নত এবং স্বচ্ছ করতে সংস্কারের সময় ও গভীরতা অনুযায়ী নির্বাচন কমিশনকে সময় দিতে হবে বলে মন্তব্য করেন তিনি। সবকিছু সময়সাপেক্ষ উল্লেখ করে তিনি বলেন, “আমাদের লক্ষ্য হলো একটি অংশগ্রহণমূলক ও সুষ্ঠু নির্বাচন নিশ্চিত করা। এটি শুধু বর্তমান নয়, ভবিষ্যতের জন্যও গুরুত্বপূর্ণ।”
প্রধান উপদেষ্টার বক্তব্যে নির্বাচনী প্রক্রিয়ার প্রতি সরকারের প্রতিশ্রুতি এবং জনগণের ভোটাধিকার নিশ্চিত করার গুরুত্ব স্পষ্টভাবে উঠে এসেছে।