রাজধানীর চকবাজারে ৪ ঘন্টায় লাখ লাখ টাকার ইফতার বিক্রি
নিজস্ব প্রতিবেদক
বৃহস্পতিবার, ১৪ মার্চ, ২০২৪
পবিত্র মাহে রমজান উপলক্ষে জমে উঠেছে পুরান ঢাকার ঐতিহ্যবাহী চকবাজারের ইফতারের বাজার। ঐতিহ্যবাহী নানা খানদানি ইফতারি শুধু রাজধানীতেই নয়, এর সুখ্যাতি সারাদেশেই রয়েছে।
গেলো বুধবার বিকেলে চকবাজারে গিয়ে দেখা যায়, চকবাজার শাহী মসজিদের সামনে সার্কুলার রোডের দুই পাশজুড়েই বিক্রেতারা সাজিয়েছেন চমুখরোচক নানা পদের ইফতা্রের পসরা ।চিকেন রোল
রমজান মাসে এসব মুখরোচক, নানান স্বাদের ইফতারির স্বাদ নিতে, দূর-দূরান্ত থেকে ভোজনবিলাসীরা ছুটে আসেন রাজধানী পুরান ঢাকার চকবাজারে।
চকবাজারের এ ইফতার শুধু ঐতিহ্যগত কারণেই নয়, গুণগতমান ও স্বাদও কদর তৈরির একটি বড় কারণ।
চকবাজারে বেশিরভাগ দোকানেই ইফতার কিনতে হয় লম্বা লাইনে দাঁড়িয়ে। পুরো বাজার ঘুরে দেখা যায়, ইফতার সামগ্রির মধ্যে সবচেয়ে বেশি বিক্রি হচ্ছে ‘বড় বাপের পোলায় খায়।
প্রায় ৬৯ বছরের পুরনো এ ইফতারের বাজার যেমন ঐতিহ্যবাহী, তেমনি দেশেই জুড়েই রয়েছে এর কদর । তাই তো প্রতিবারের মতো এবারের রমজানের প্রথম দিন থেকেই উপচেপড়া ভিড় দেখা গেছে এ ইফতার বাজারে।দই বড়া
ঐতিহ্যবাহী এ ইফতার বাজারে ইফতার কিনতে আসা মানুষের যেমন ভিড় ছিল, তেমনি ঐতিহ্যবাহী এ ইফতার বাজার দেখতে আসা মানুষের ভিড়ও কম ছিল না। বিক্রেতাদেরও ইফতার সামগ্রিগুলোর নাম ধরে হাঁক-ডাক দিতে দেখা গেছে জোরে সরেই।
দ্রব্যমূল্যের দাম ঊর্ধ্বগতিতে থাকায় গত বছরের তুলনায় এবার চকবাজারে ইফতার সামগ্রিগুলোর দাম বেশি বলে জানিয়েছেন ক্রেতা ও বিক্রেতা উভয়েই। তবে ঠিক কতখানি দাম বেড়েছে তা নির্দিষ্ট করে কেউ বলতে পারেননি। কেউ কেউ বলছেন দ্বিগুণ দাম বেড়েছে ইফতার সামগ্রিগুলোর, কেউবা বলছেন ২৫ শতাংশ দাম বেড়েছে। দাম যতই বাড়ুক, খানদানি ইফতার কিনতে কার্পণ্য ছিল না ক্রেতাদের।কাশমেরী পেস্তা বাদামের শরবত,লাবাং
এছাড়া পানীয়ের দিক দিয়ে প্রতি লিটার শরবত-ই মোহাব্বত বড় বোতল ২০০ টাকা, ছোত বোতল ১০০ টাকা ,মাঠা ১৪০ টাকা, লাবাং ২০০ টাকা, বোরহানি ১২০ টাকা, পেস্তা বাদামের শরবত ৩৮০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। মিষ্টি জাতীয় খাবারের মধ্যে প্রতি পিস মালপোয়া ৩০ টাকা, পাটিসাপ্টা ৩০ টাকা, ফালুদা (বক্স) ১১০-২২০ টাকা, ফিরনি বড় বাটি ২০০ এবং ছোট বাটি ১০০ টাকা, জর্দা (বক্স) ১২০ টাকায় বিক্রি হতে দেখা যায়।সুতি কাবাব
প্রতি বছরের মতো এবারও চকবাজারের ইফতারের প্রধান আকর্ষণ ছিল ‘বড় বাপের পোলায় খায়, ঠোঙা ভইরা লইয়া যায়’ নামের বিশেষ ইফতার সামগ্রি । এটি কিনতে ক্রেতাদের দীর্ঘ সময় লাইনে অপেক্ষা করতে দেখা গেছে। এই ইফতার তৈরিতে উপকরণ হিসেবে ব্যবহার করা হয় মুরগীর মাংস, সুতি কাবাব, মাংসের কিমা, ডাবলি, বুটের ডাল, ডিম, মগজ, আলু, ঘি, কাঁচা ও শুকনো মরিচসহ নানা পদ এবং ১২ রকমের মসলার ব্যবহার করা হয়। প্রতি কেজি ‘বড় বাপের পোলায় খায়, ঠোঙা ভইরা লইয়া যায়’ এর দাম ছিল ৮০০ ।বড় বাপের পোলায় খায়
চকবাজারে তিন প্রজন্ম ধরে ইফতার বিক্রি করে আসছেন মোহাম্মাদ । তিনি বলেন, আমার বড় আব্বা এখানে ইফতার বিক্রি করতেন। তারপর দাদা এরপর বাবা বিক্রি করতেন। এখন আমি বিক্রি করছি। প্রতি বছরই ঐতিহ্যবাহী এই ইফতার বাজার জমে ওঠে। এবারও এর কোন ব্যতিক্রম হয়নি। প্রথম দিনেই ক্রেতাদের উপচে পড়া ভিড় ছিলো। ইফতারের আগ মুহূর্তে এটি আরও বাড়বে বলে জানান তিনি।চিকেন ভূনা
মো. হারুনের পরিবারও তিন প্রজন্ম ধরেই এ বাজারে ইফতার বিক্রি করে আসছেন । তিনি জানান ,এবার ইফতারের দাম প্রায় দ্বিগুণ হয়েছে। নিত্যপ্রয়োজনীয় সব পণ্যের দাম অনেক বেশি। গ্যাস থেকে শুরু করে শসা পর্যন্ত। ্তাই ইফতারের দাম না বাড়িয়ে উপায় নেই। গত ৫০ বছর ধরে এখানে ব্যবসা করছি। আমার আগে আমার বাবা, দাদা করতো। অন্যান্য বছরের তুলনায় এবার ভিড় একটু কম হচ্ছে। তারপরও এ বাজারে হাঁটার মতো জায়গা নেই। কারণ এটি ঐতিহ্যবাহী ইফতারের বাজার। দূর-দূরান্ত থেকে মানুষ এখানে আসেন প্রিয় ইফতার সামগ্রি নিতে। হাস ভূনা
বেশ কয়েকজন ক্রেতার সঙ্গে কথা বলে এর সতযতা পাওয়া যায় । রাজধানীর বিভিন্ন প্রান্ত থেকে খানদানি ইফতার কিনতে চকবাজারে ছুটে এসেছেন অনেক মানুষ। তাদের একজন সুমন। চাকরি করেন একটি ল’ চেম্বারে। তিনি এসেছেন কাকরাইল থেকে। জুয়েল বলেন, প্রতি বছরই চকবাজারে ইফতার কিনতে আসা হয়। এবার প্রথম দিনই এসেছি। কাবাব, চিকনে ঝাল ফ্রাই, চিকেগ গ্রিল, ডিম চপ, রোস্টসহ বিভিন্ন আইটেম কিনেছি।মিষ্ঠান্ন সামগ্রী কবির চৌধুরী জয়,সিনিয়র স্টাফ রিপোর্টার , দূরবীন নিউজ